সবার পছন্দের মচমচে চিংড়ি মাছের মাথা ভাজা Crispy Fried Shrimp Heads
চিংড়ি মাছের মাথা ভাজা বাঙালির রান্নাঘরের এক অনন্য স্বাদের পদ। ভাতের সঙ্গে এটি পরিবেশন করলে খাবারের স্বাদ বেড়ে যায় দ্বিগুণ। সাধারণত চিংড়ির মাথা অনেক সময় ফেলে দেওয়া হয়, কিন্তু সঠিকভাবে ভেজে নিলে এটি হয়ে ওঠে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর একটি খাবার। পেঁয়াজ কুঁচি, কাঁচা মরিচ, রসুন আর লবণের সঙ্গে গরম তেলে ভেজে নেওয়া চিংড়ি মাছের মাথা হয়ে ওঠে মচমচে ও লোভনীয়। বিশেষ করে গরম ভাতের সঙ্গে খেলে এর স্বাদ অতুলনীয়।
চিংড়ি মাছের মাথায় প্রচুর ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও খনিজ উপাদান থাকে, যা শরীরের হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সহায়তা করে। এছাড়া এতে থাকা আয়রন ও ফসফরাস শরীরকে শক্তি জোগায় এবং রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। ভাজা অবস্থায় এটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করাও সম্ভব, তাই অনেকেই ভ্রমণে শুকনা খাবার হিসেবেও নিয়ে যান।
গ্রামীণ বাংলার রান্নাঘর থেকে শুরু করে শহরের ঘরোয়া মেনুতেও চিংড়ি মাছের মাথা ভাজা সমান জনপ্রিয়। এর সহজ রেসিপি, পুষ্টিগুণ এবং ভিন্ন স্বাদের কারণে এটি সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই ভাতের সেরা সঙ্গী হিসেবে চিংড়ি মাছের মাথা ভাজা নিঃসন্দেহে এক অনন্য ঐতিহ্যবাহী পদ।
দেখে নেই তাহলে কি কি লাগছে, এই রান্না করতে।
উপকরণ
১. বড় চিংড়ি মাছের খোসা
২. পেঁয়াজ
৩. লবণ
৪. হলুদ
৫. চাক করে কাটা কাঁচা মরিচ
প্রস্তুত প্রণালী
বড় চিংড়ি মাছের খোসা ও মাথার নীচে যে থলে (stomach) থাকে তা ফেলে পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন। চিংড়ির মাথা ও বাকী অংশ দিক আলাদা করে কাটুন। চিড়ির মাথা লবণ হলুদ দিয়ে মেখে গরম তেলে ছেড়ে দিয়ে আধা তাজা হ'লে লম্বা করে কাটা পরিমাণ মত পেঁয়াজ তেলে ছেড়ে দিয়ে এবার চিংড়ির মাথা ও পেঁয়াজ বাদামী করে ভাজা হলে তুলে ফেলুন।
পুষ্টিগুণ
চিংড়ি মাছের মাথা শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং এতে রয়েছে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান। সঠিকভাবে ভেজে খেলে এটি ভাতের সঙ্গে যেমন স্বাদ বাড়ায়, তেমনি শরীরকেও দেয় পুষ্টির জোগান।
১. প্রোটিন
চিংড়ি মাছের মাথা প্রোটিনে সমৃদ্ধ, যা দেহের পেশী গঠন, কোষ মেরামত ও শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে।
২. ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।
৩.আয়রন
রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সহায়তা করে এবং রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
৪. ভিটামিন এ ও ডি
চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি ও হাড়ের সঠিক বিকাশে সহায়ক।
৫. ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর।
৬. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
শরীরকে ফ্রি-র্যাডিকেল ক্ষতি থেকে রক্ষা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
তবে খেয়াল রাখতে হবে, চিংড়ি মাছের মাথা তেলে ভাজার কারণে এতে কিছুটা ফ্যাট ও ক্যালোরি বেড়ে যায়। তাই স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য গ্রিল বা অল্প তেলে ভেজে খাওয়াই ভালো।
সব মিলিয়ে চিংড়ি মাছের মাথা ভাজা হলো ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলে ভরপুর এক ঐতিহ্যবাহী খাবার, যা শরীরকে দেয় শক্তি ও পুষ্টি।
আরো দেখুন
- কাঁচা তেজপাতায় ভিন্ন স্বাদের বিয়ে বাড়ির খাসির মাংস রান্না
- সহজে ও মজাদার নাস্তার চিড়ার পোলাও বানানোর উপায়
- ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু পুলি পিঠা বানানোর উপায়
- ঘরেই তৈরি করুন থাই স্যুপ – স্বাদে ও পুষ্টিতে অনন্য
- মুচমুচে পেঁয়াজ পাকোড়া বানানোর সহজ পদ্ধতি
- বিনা রসুন-পেঁয়াজে পারফেক্ট ফুলকপির নিরামিষ ডালনা
- কেশুনাট সালাদ ঘরে যেভাবে তৈরি করবেন
- থানকুনি পাতার গুণাগুণ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- ঘরে তৈরি নরম ও মজাদার বন রুটি
- প্রেসার কুকারে ভাপা বা ধুকি পিঠা | Vapa Pitha
