ঘরে তৈরি নরম ও মজাদার বন রুটি Soft and Delicious Homemade Forest Bread
বন রুটি বাংলাদেশের প্রতিদিনের নাস্তায় বা বিকেলের খাবারে বেশ জনপ্রিয় একটি আইটেম। মিষ্টি স্বাদ আর নরম ফোলাফোলা টেক্সচারের জন্য এটি ছোট-বড় সবার কাছেই সমানভাবে প্রিয়। সাধারণত বন রুটি ময়দা, দুধ, চিনি, ডিম, মাখন এবং ইস্ট দিয়ে তৈরি করা হয়। ইস্টের কারণে এটি সুন্দরভাবে ফুলে ওঠে এবং ভেতরে ফাঁপা ও নরম হয়। উপরিভাগে তিল ছিটিয়ে বেক করলে এটি আরও আকর্ষণীয় লাগে এবং স্বাদে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।
গ্রামের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে শহরের বেকারি—সব জায়গায় বন রুটি পাওয়া যায়। এক কাপ গরম চায়ের সঙ্গে বন রুটি হলে যেন সকাল কিংবা বিকেলের আড্ডা আরও জমে ওঠে। অনেকেই বন রুটির ভেতরে জ্যাম, জেলি বা মাখন লাগিয়ে খেতে পছন্দ করেন। আবার কেউ কেউ এটি কেটে স্যান্ডউইচের মতো বানিয়েও উপভোগ করেন।
আজকাল ঘরে বসেও সহজে বন রুটি বানানো যায়। সঠিক পরিমাণে উপকরণ মিশিয়ে ওভেনে বেক করলেই পাওয়া যায় বাজারের মতো নরম বন রুটি। যারা হালকা মিষ্টি এবং নরম রুটি খেতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য বন রুটি নিঃসন্দেহে একটি আদর্শ খাবার। ঐতিহ্য ও স্বাদের অনন্য মিশ্রণে বন রুটি কেবল একটি রুটি নয়, বরং আমাদের খাদ্যসংস্কৃতির একটি প্রিয় অংশ।
দেখে নেই তাহলে কি কি লাগছে, এই রান্না করতে।
উপকরণ
১. ড্রাই ইষ্ট- ২ চা-চামচ
২.সামান্য গরম পানি- ১২৫ গ্রাম
৩. ময়দা- ১/২ কেজি
৪. চিনি- ১০০ গ্রাম
৫. ডালডা- ১০০ গ্রাম
৬. লবণ- ১ চা-চামচ
৭. ডিম- ১টা
৮. কিশমিশ- ২০০ গ্রাম
৯. মোরব্বা- ১০০ গ্রাম
প্রস্তুত প্রণালী
ড্রাই ইষ্ট, অল্প গরম পানি, চিনি এক সাথে মিশিয়ে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন প্রায় ১৫ মিনিট।
একটি গামলায় ময়দা, চিনি, জমানো ডালডা, লবণ ও ডিম এক সাথে নিন। এতে ভেজানো ইষ্ট ফেনা ফেনা হলে মেশান। ভালমত মেশানো হলে দরকার মত পানি দিয়ে রুটির খামিরের মত মাখুন। খামির হলে কিশমিশ ও মোরব্বা মেশান। এবারে রুটির খামিরের মত ১/২ ঘণ্টা ঢেকে রেখে দিন। ১/২ ঘণ্টা পর প্রয়োজন মত খামির নিয়ে গোলা তৈরী করে ট্রেতে ফাঁক ফাঁক করে বসান। একটু গরম জায়গায় ১/২ ঘন্টার কিছু বেশী সময় তোয়ালে কিম্বা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। গোলাগুলি ফুলে উঠলে ওপরটা ক্রস কাঁচি দিয়ে কেটে দিন। ওপরে সামান্য চিনি ছিটিয়ে তন্দুরে বেক করুন। বেক করতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগবে। এতে বেশ ক'একটি বনরুটি হবে।
পুষ্টিগুণ
বন রুটি শুধু সুস্বাদুই নয়, এতে রয়েছে বেশ কিছু পুষ্টিগুণও। ময়দা থেকে প্রাপ্ত কার্বোহাইড্রেট শরীরে শক্তি জোগায় এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে সহায়তা করে। ডিম ও দুধের উপস্থিতি প্রোটিনের যোগান দেয়, যা দেহের কোষ গঠন ও মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাখনের মধ্যে থাকা চর্বি শরীরে প্রয়োজনীয় ক্যালরি ও কিছু ভিটামিন শোষণে সহায়ক। এছাড়া দুধ থেকে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়, যা হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে সাহায্য করে।
চিনি বন রুটিকে মিষ্টি স্বাদ দিলেও এটি দ্রুত শক্তি জোগায়। তবে পরিমাণে বেশি খেলে ক্যালরির আধিক্য হতে পারে। তাই বন রুটি খাওয়ার সময় সুষম পরিমাণ বজায় রাখলে এটি নাশতা বা হালকা খাবার হিসেবে স্বাস্থ্যকর একটি বিকল্প হতে পারে।
আরো দেখুন
- কাঁচা তেজপাতায় ভিন্ন স্বাদের বিয়ে বাড়ির খাসির মাংস রান্না
- সহজে ও মজাদার নাস্তার চিড়ার পোলাও বানানোর উপায়
- ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু পুলি পিঠা বানানোর উপায়
- ঘরেই তৈরি করুন থাই স্যুপ – স্বাদে ও পুষ্টিতে অনন্য
- মুচমুচে পেঁয়াজ পাকোড়া বানানোর সহজ পদ্ধতি
- বিনা রসুন-পেঁয়াজে পারফেক্ট ফুলকপির নিরামিষ ডালনা
- কেশুনাট সালাদ ঘরে যেভাবে তৈরি করবেন
- থানকুনি পাতার গুণাগুণ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- ঘরে তৈরি নরম ও মজাদার বন রুটি
- প্রেসার কুকারে ভাপা বা ধুকি পিঠা | Vapa Pitha
