স্টাফড এগ প্লান্ট রেসিপি – ভরপুর স্বাদের বেগুনের ডিশ Stuffed Eggplant Recipe – A Flavorful Egg Dish
বেগুন আমাদের রান্নাঘরের একটি পরিচিত সবজি, তবে এর ভিন্ন স্বাদের একটি দারুণ রূপ হলো ‘স্টাফড এগ প্লান্ট’ বা ভরাট বেগুন। এই রেসিপিতে বেগুনকে ফাঁপা করে তার ভেতরে ভরে দেওয়া হয় মশলাদার পুর। পুরে ব্যবহার করা যায় পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা, মসলা, কখনোবা কিমা বা ডাল। এতে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি তৈরি হয় ভিন্নধর্মী একটি লোভনীয় পদ।স্টাফড এগ প্লান্ট রান্না করা যায় ভাজা, ঝোল কিংবা গ্রিল আকারে। ভাজা বা ভর্তা বেগুনের তুলনায় এই ডিশটি অনেক বেশি আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যময়। ভেতরে থাকা পুর বেগুনের নরম টেক্সচারের সঙ্গে মিশে একেবারেই নতুন স্বাদ তৈরি করে। যারা নিরামিষভোজী তাদের জন্য এটি হতে পারে বিশেষ খাবার, আবার আমিষপ্রেমীরা চাইলে মাংস বা মাছ দিয়ে পুর বানাতে পারেন।
এটি শুধু ভাতের সঙ্গেই নয়, রুটি, পরোটা কিংবা নান রুটির সঙ্গেও খেতে দারুণ লাগে। পরিবারের বিশেষ আয়োজনে বা অতিথি আপ্যায়নে পরিবেশনের জন্য স্টাফড এগ প্লান্ট হতে পারে চমৎকার একটি অপশন।
দেখে নেই তাহলে কি কি লাগছে, এই রান্না করতে।
উপকরণ
১. গোল বেগুন- ১ টা২. লবণ- পরিমাণ মত
৩. বড় পেঁয়াজ- ১ টা
৪. চিনি- ১ টেবিল-চামচ
৫. কাঁচা মরিচ কুচি- ১ টা
৬. লবঙ্গ- ১ টা
৭. মরিচ গুড়া বা বাটা- সামান্য
৮. মধ্যম আকারের টমেটোর টুকরা- ৩ টা
৯. টাটকা রুটির গুড়া- ১ কাপ
১০.পনীর কুচি- ২৫০ গ্রাম
১১. মাখন- ২ টেবিল চামচ
প্রস্তুত প্রণালী
বেগুনের মাথার অথবা নিচের দিকটা কেটে ভেতরের শাঁস বের করে নিতে হবে। শাঁস বের করার পরেও যেন বেগুন " পুরু থাকে। ফুটন্ত লবণ পানিতে বেগুন দিয়ে অল্পক্ষণ রেখে নামিয়ে নিতে হবে ও গরম পানিতে ঢেকে প্রায় পাঁচ মিনিট রাখতে হবে। অপর দিকে, তেলে পেঁয়াজ ভেজে টমেটো, মরিচ কুচি, লবণ, চিনি, মরিচ বাটা ও শাঁসের কিছুটা অংশ যোগ করে সমস্ত উপকরণ আন্দাজ মত হলে নামিয়ে নিয়ে এতে রুটির গুড়া মিশিয়ে বেগুনের ভেতর ভরতে হবে। ওপরে পনীর কুচি ছড়িয়ে দিতে হবে। পনীরের ওপর কিছু মাখন ছড়িয়ে দিতে হবে। সবট। তন্দুরে ১ ঘণ্টা বেক করতে হবে।পুষ্টিকর
স্টাফড এগ প্লান্ট (Stuffed Eggplant) শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং ভরপুর পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে ব্যবহৃত প্রধান উপাদান বেগুনের সঙ্গে যুক্ত হয় ভেতরের পুর, যা সবজি, ডাল, বা মাংসের মিশ্রণে আরও পুষ্টিকর হয়ে ওঠে। নিচে এর প্রধান পুষ্টিগুণ তুলে ধরা হলো –
১. ক্যালরি কম, ফাইবার বেশি – বেগুনে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকলেও এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফাইবার, যা হজমে সহায়তা করে ও দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।
২. ভিটামিন ও খনিজ – বেগুনে রয়েছে ভিটামিন বি১, বি৬, সি এবং খনিজ যেমন পটাশিয়াম, আয়রন ও ম্যাঙ্গানিজ। এগুলো শরীরের শক্তি উৎপাদন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট – বেগুনের বেগুনি খোসায় আছে অ্যান্থোসায়ানিন ও ন্যাসুনিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষকে ফ্রি-র্যাডিক্যাল ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
৪. প্রোটিন ও আয়রন (পুরের কারণে)– যদি পুরে ডাল, কিমা বা বাদামজাতীয় উপকরণ ব্যবহার করা হয়, তবে এটি প্রোটিন ও আয়রনের দারুণ উৎস হয়ে ওঠে।
৫. লো ফ্যাট অপশন – তেল কম ব্যবহার করলে এটি একটি স্বাস্থ্যকর, লো-ফ্যাট ওজন নিয়ন্ত্রণবান্ধব ডিশ হিসেবে খাওয়া যায়।
আরো দেখুন
- কাঁচা তেজপাতায় ভিন্ন স্বাদের বিয়ে বাড়ির খাসির মাংস রান্না
- সহজে ও মজাদার নাস্তার চিড়ার পোলাও বানানোর উপায়
- ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু পুলি পিঠা বানানোর উপায়
- ঘরেই তৈরি করুন থাই স্যুপ – স্বাদে ও পুষ্টিতে অনন্য
- মুচমুচে পেঁয়াজ পাকোড়া বানানোর সহজ পদ্ধতি
- বিনা রসুন-পেঁয়াজে পারফেক্ট ফুলকপির নিরামিষ ডালনা
- কেশুনাট সালাদ ঘরে যেভাবে তৈরি করবেন
- থানকুনি পাতার গুণাগুণ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- ঘরে তৈরি নরম ও মজাদার বন রুটি
- প্রেসার কুকারে ভাপা বা ধুকি পিঠা | Vapa Pitha
