বয়েল্ড ডিমের কুসুম ফ্রসটিং Boiled Egg Yolk Frosting– সহজ রেসিপি

Nahar
0

বয়েল্ড ডিমের কুসুম ফ্রসটিং – সহজ রেসিপি Boiled Egg Yolk Frosting

বেকিং ভালোবাসেন এমন যে কেউ জানেন, কেক বা ডেজার্টকে আকর্ষণীয় করে তুলতে ফ্রসটিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রচলিত বাটারক্রিম বা হুইপড ক্রিমের বাইরে গিয়ে আপনি চাইলে বানাতে পারেন ভিন্ন স্বাদের বয়েল্ড এগ ইয়োক ফ্রসটিং। এই ফ্রসটিংয়ের মূল উপাদান হলো সেদ্ধ ডিমের কুসুম, যা ফ্রসটিংকে দেয় বিশেষ ধরনের মসৃণতা এবং সমৃদ্ধ স্বাদ।

সেদ্ধ কুসুম ভালোভাবে চটকে মেশানো হয় চিনি, বাটার এবং ভ্যানিলা এসেন্সের সঙ্গে। ফলাফল হয় ক্রিমি ও লাইট টেক্সচারের একটি ফ্রসটিং, যা কেক, কুকিজ কিংবা কাপকেক সাজানোর জন্য দারুণ মানানসই। প্রচলিত ফ্রসটিংয়ের তুলনায় এতে একটি ন্যাচারাল রিচনেস থাকে, যা ভিন্ন অভিজ্ঞতা এনে দেয় স্বাদে। এছাড়া, ডিমের কুসুমে থাকা প্রোটিন ও ভিটামিন ফ্রসটিংকে শুধু সুস্বাদুই করে না, বরং যোগ করে বাড়তি পুষ্টিগুণ।

যারা কেক বা ডেজার্টে নতুনত্ব খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার অপশন। ঘরে সহজে তৈরি করা যায় এবং খুব বেশি উপকরণেরও দরকার হয় না। বয়েল্ড এগ ইয়োক ফ্রসটিং ব্যবহার করলে আপনার ঘরোয়া ডেজার্ট পাবে বেকারির মতো চমৎকার স্বাদ ও সৌন্দর্য।

উপকরণ

১. চিনি- ২ কাপ
২. সির্কা- ১ চা-চামচ
৩. গরম পানি- ১/২ কাপ
৪. মাখন- ২ টেবিল-চামচ
৫. ২টা ডিমের ভাল করে ফেটানো হলুদ অংশ
৬. কমলার রস- ১ চা-চামচ
৭. বেকিং পাউডার- ১ চা-চামচ

প্রস্তুত প্রণালী

চিনি, সির্কা, ২ পেয়ালা গরম পানি এক সাথে মিশিয়ে ফেলুন। এবার উনুনে বসিয়ে জ্বাল দিন ও ফুটন্ত অবস্থায় আনুন। অনবরত নাড়তে থাকুন। এবার পাত্রের মুখ ঢেকে দিন ও না নেড়ে জ্বাল যতক্ষণ এই মিশ্রিত উপকরণ চামচে করে ফেললে ১০-১২ ইঞ্চি সুতোর মত না হয়। উনুনের ওপর থেকে নামিয়ে মাখন মেশান ও ডিমের হলুদ অংশের ওপর ঢেলে ফেলুন। উপকরণ খুব ফেটুন। অন্য সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে আরও যথেষ্ট ফেটুন যতক্ষণ উপকরণ নরম না হয়। ঠাণ্ডা করে ফ্রিজে রেখে দিন।

পুষ্টিগুণ

বয়েল্ড এগ ইয়োক ফ্রসটিং শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং এতে লুকিয়ে আছে নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ। সেদ্ধ ডিমের কুসুমে থাকে উচ্চমানের প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান, যা ফ্রসটিংকে সাধারণ ফ্রসটিংয়ের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর করে তোলে। নিচে এর প্রধান পুষ্টিগুণ দেওয়া হলো –

১. প্রোটিন – ডিমের কুসুমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে, যা শরীরের টিস্যু গঠন ও মেরামতে সহায়তা করে।

২. ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে – চোখের দৃষ্টি উন্নত করা, হাড় মজবুত রাখা, ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৩. হেলদি ফ্যাট – ডিমের কুসুমে থাকা মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী।

৪. কোলিন – মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, স্মৃতিশক্তি ও নার্ভাস সিস্টেম উন্নত করতে সাহায্য করে।

৫. মিনারেলস – আয়রন, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম এবং জিঙ্ক শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়ক।

৬. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট – লুটেইন ও জেক্সান্থিন চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং বয়সজনিত চোখের সমস্যা প্রতিরোধ করে।


তবে মনে রাখতে হবে, ফ্রসটিংয়ে সাধারণত চিনি ও বাটারও ব্যবহার করা হয়, তাই এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।

আরো দেখুন



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!