কিশমিশের রুটি বানানোর নিয়ম ও প্রয়োজনীয় উপকরণ
কিশমিশের রুটি শুধু একটি সাধারণ নাস্তা নয়, এটি একদিকে যেমন সুস্বাদু, অন্যদিকে তেমনই পুষ্টিকর। নরম ও মিষ্টি এই রুটির মধ্যে কিশমিশের প্রাকৃতিক মিষ্টতা যোগ করে এক অনন্য স্বাদ, যা শিশু থেকে বড় সবাইকে আকর্ষণ করে। সকালের নাস্তা, বিকেলের চা বা স্কুলের টিফিন—সব সময়ের জন্যই কিশমিশের রুটি উপযুক্ত একটি খাবার। এতে থাকা কিশমিশ শরীরে আয়রন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে, যা হজমে সাহায্য করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ঘরে তৈরি কিশমিশের রুটি সংরক্ষণ করাও সহজ এবং এতে কোনো কৃত্রিম সংরক্ষণকারী থাকে না। ফলে এটি স্বাস্থ্যসম্মত একটি বিকল্প। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি একটি চমৎকার এনার্জি স্ন্যাকস হিসেবে কাজ করে। চাইলে এতে দুধ, মাখন বা বাদাম যোগ করে আরও পুষ্টিকর করে তোলা যায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিশমিশের রুটি রাখতে পারেন নিশ্চিন্তে—একদিকে স্বাদ, অন্যদিকে পুষ্টি দুটোই মেলে এই এক খাবারে।
দেখে নেই তাহলে কি কি লাগছে, এই রান্না করতে।
উপকরণ
১. ময়দা- ২০০ গ্রাম
২. বাই কার্বোনেট সোডা- ১ চা-চামচ
৩. লবণ- ১ চা-চামচ
৪. পেষা চিনি- ৩০০ গ্রাম
৫. ভালভা- ৪০০ গ্রাম
৬. কিশমিশ- ৪০০ গ্রাম
৭. ডিম- ১টা
৮. বাটার মিল্ক- ১২ কাপ (অর্থাৎ ৭৫০ গ্রাম)
প্রস্তুত প্রণালী
ময়দা, সোডা, লবণ চেলে নিতে হবে। এতে পেষা চিনি ও ভালডা ভালমত মেশাতে হবে। এরপর এতে একে একে কিশমিশ, ডিম ও বাটার মিল্ক ধীরে ধীরে মেশাতে হবে। উপকরণ একটি দলায় পরিণত হবে। দলা হান্তাভাবে মাখতে হবে ও মাখন মাখানো বেকিং টিনে রেখে গরম ওভেনে ৩০-৪০ মিনিট বেক করতে হবে।
পুষ্টিগুণ
কিশমিশের রুটি সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি এতে রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টিগুণ। এতে থাকা কিশমিশ প্রাকৃতিকভাবে আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করে। রুটির উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত ময়দা বা আটা থেকে পাওয়া যায় কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। এছাড়া এতে থাকা ফাইবার হজমশক্তি বাড়ায় ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে। কিশমিশের প্রাকৃতিক চিনি গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ শরীরকে সক্রিয় রাখে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। মাখন বা দুধ দিয়ে তৈরি রুটিতে প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামও যুক্ত হয়, যা হাড় ও পেশিকে মজবুত রাখে। নিয়মিত কিশমিশের রুটি খেলে শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ও খনিজ উপাদানের ঘাটতি পূরণ হয়। সব মিলিয়ে কিশমিশের রুটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ, শক্তিবর্ধক ও পুষ্টিকর খাদ্য, যা সকালের নাস্তা বা হালকা ক্ষুধার সময় আদর্শ একটি বিকল্প।
আরো দেখুন
- কাঁচা তেজপাতায় ভিন্ন স্বাদের বিয়ে বাড়ির খাসির মাংস রান্না
- সহজে ও মজাদার নাস্তার চিড়ার পোলাও বানানোর উপায়
- ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু পুলি পিঠা বানানোর উপায়
- ঘরেই তৈরি করুন থাই স্যুপ – স্বাদে ও পুষ্টিতে অনন্য
- মুচমুচে পেঁয়াজ পাকোড়া বানানোর সহজ পদ্ধতি
- বিনা রসুন-পেঁয়াজে পারফেক্ট ফুলকপির নিরামিষ ডালনা
- কেশুনাট সালাদ ঘরে যেভাবে তৈরি করবেন
- থানকুনি পাতার গুণাগুণ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- ঘরে তৈরি নরম ও মজাদার বন রুটিপ্রেসার কুকারে ভাপা বা ধুকি পিঠা | Vapa Pitha
