সহজ উপায়ে রান্না করুন মজাদার ফুলকপির ঝাল মাখনা
ফুলকপির তরকারী একটি জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর ঘরোয়া খাবার। যা শীতের মৌসুমে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই রান্না করা হয়। ফুলকপির সঙ্গে আলু, টমেটো, পেঁয়াজ, রসুন ও মশলার মিশ্রণে তৈরি এই পদটি ভাত বা রুটির সঙ্গে দারুন খেতে লাগে। সহজ উপায়ে তৈরি করা যায় বলে এটি গৃহিণীদের কাছে পছন্দ। রান্নার সময় প্রথমে পেঁয়াজ ও রসুন ভেজে মশলা দিতে হবে, এরপর ফুলকপি ও আলু দিয়ে হালকা ভাজা করে অল্প পানি দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। এতে তৈরি হয় হালকা ঝোলওয়ালা সুগন্ধি তরকারি, যা খেতে অত্যন্ত উপাদেয়।ফুলকপি কম ক্যালরিযুক্ত হওয়ায় এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে। নিয়মিত পরিমাণে ফুলকপির তরকারি খেলে শরীর সুস্থ থাকে ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ হয়।
এই সহজ ও পুষ্টিকর ফুলকপির তরকারি ঘরোয়া রান্নায় একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
দেখে নেই তাহলে কি কি লাগছে, এই রান্না করতে।
উপকরণ
১. ফুলকপি- ১টি২. টমেটো- ১-২ টি
৩. পেঁয়াজ বাটা- অল্প
৪. আদা বাটা- ১/২ চা চামচ
৫. হলুদ গুড়া- ১/২ চা চামচ
৬. মরিচ বাটা- ১ চা চামচ
৭. দই- ১ চা চামচ
৮. তেজপাতা- ২টি
৯. কিশমিশ- অল্প
১০. নারিকেলের দুধ- ১টি
১১. তেল- পরিমাণ মত
১২. ঘি- সামান্য
১৩. চিনি- অল্প
১৪. লবণ- পরিমাণ মত
প্রস্তুত প্রণালী
ফুলকপি বড় বড় টুকরা কেটে নিতে হবে। আর নারিকেল কুরিয়েও গরম পানি দিয়ে চটকিয়ে দুধ বের করে নিতে হবে।এবারে কড়াইতে তেল গরম করে ধুয়ে নেওয়া ফুলকপির বড় বড় টুকরাগুলো ভেজে তুলে রাখতে হবে। অপর আর একটি পাত্রে অল্প তেল গরম করে পেঁয়াজ বাটা কষিয়ে হলুদ গুড়া, মরিচ বাটা দিতে হবে। হলুদ মরিচ দিয়ে সামান্য কষিয়ে আদা বাটা দিতে হবে এবং অল্প লবণ ও তেজপাতাও দিয়ে দিতে হবে। কষা মশলায় টমেটো টুকরা দিয়ে অল্প দই দিতে হবে। সবকিছু কষাবার সময় নারিকেলের দুধ অর্ধেক পরিমাণ ঢেলে দিয়ে কষান। মশলা হতে ঘ্রাণ বের হলে ভাজা কপি ও কিছু কিশমিশ দিতে হবে। কপি অল্প নেড়েচেড়ে নারিকেলের বাকী দুধটুক ঢেলে পাত্রের মুখে ঢেকে দিতে হবে। কপি সুসিদ্ধ হলে ও ঝোল কমে এলে সামান্য ঘি, চিনি ও গরম মশলা দিয়ে নামিয়ে ফেলুন।
পুষ্টিগুণ
ফুলকপির তরকারি খেতেও সুস্বাদু, পুষ্টিগুণেও ভরপুর। ফুলকপি একটি কম ক্যালরিযুক্ত সবজি, কিন্তু এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন C, ভিটামিন K, ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম ও ডায়েটারি ফাইবার, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করে।ফুলকপিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে, কোষের ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল রাখে। এতে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়া ভিটামিন K ও ক্যালসিয়াম হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে এবং ভিটামিন C শরীরে কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী।
যদি ফুলকপির তরকারি রান্নায় কম তেল ও পরিমিত মশলা ব্যবহার করা হয়, তবে এটি একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার হয়। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ফুলকপির তরকারি রাখলে এটি শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে ও সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখে।
