মজাদার নকশি পিঠা বানানোর সহজ পদ্ধতি

Nahar
0



মজাদার নকশি পিঠা বানানোর সহজ পদ্ধতি

নকশি পিঠা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী এক সুস্বাদু মিষ্টি পিঠা, যা তার সুন্দর নকশা ও কোমল স্বাদের কারণে সকল বয়সের মানুষের প্রিয়। বিশেষত শীতের উৎসব বা পিঠা উৎসবে এটি খাওয়ার জন্য অনেকেই প্রতীক্ষা করে। নকশি পিঠা তৈরি হয় মূলত চালের গুঁড়া, চিনি বা গুঁড় এবং এলাচের সুবাসে।

নকশি পিঠা বানানো সহজ হলেও একটু মনোযোগের প্রয়োজন। প্রথমে চালের গুঁড়া পানি দিয়ে নরম ডো তৈরি করতে হয়। এরপর পিঠার ওপর সুন্দর নকশা কেটে বা ছাপিয়ে দিতে হয়, যা পিঠাটিকে দেখতে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। ভাজার সময় হালকা আঁচ ব্যবহার করলে পিঠার বাইরের অংশ সোনালি হয় এবং ভেতরটা মোলায়েম থাকে।

নকশি পিঠা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী একটি মিষ্টি পিঠা, যা তার সুন্দর নকশা ও স্বাদ সবাইকে মুগ্ধ করে। বিশেষত শীতের সময় বা উৎসবের সময়ে এটি বেশি জনপ্রিয়।

নিচে ধাপে ধাপে ঘরোয়া নকশি পিঠার রেসিপি দেওয়া হলো:

উপকরণ

১. চালের গুঁড়া (ভেজানো ও পিষে নেওয়া) – ২ কাপ
২. নারকেল কুরানো – ১ কাপ
৩. চিনি বা গুঁড় – ¾ কাপ (স্বাদ অনুযায়ী)
৪. এলাচ গুঁড়া – ½ চা চামচ
৫. লবণ – এক চিমটি
৬. পানি – প্রয়োজনমতো
৭. তেল – ভাজার জন্য

প্রস্তুত প্রণালী

১. ডো তৈরি করা
চালের গুঁড়া পানি দিয়ে নরম ডো তৈরি করুন। ডোটি যেন খুব খুব শক্ত না হয়, মধ্যমোলায়েম হওয়া উচিত।

২. রস তৈরি
একটি পাত্রে পানি, চিনি বা গুঁড় ও এলাচ গুঁড়া মেশায় জ্বাল দিয়ে নিতে হবে। চাইলে একটু লবণও দিতে পারেন।

৩. পিঠা গঠন করা
ডো ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিতে হবে। হাত বা নকশি ছাঁচ ব্যবহার করে পিঠার ওপর সুন্দর নকশা কেটে বা ছাপিয়ে দিতে হবে।

৪. পিঠা ভাজা
চুলায় কড়াই বসায় দিয়ে তেল দিতে হবে। তেল গরম হলে পিঠাগুলো হালকা আঁচে ধীরে ধীরে ভাজতে হবে, যাতে বাইরের অংশ সোনালি হয়ে যায় এবং ভেতরের ভালোভাবে সেঁকে যায়।

৫. রসে ডুবানো
পিঠাগুলো ভাজা হলে আগে তৈরি করা রসে ডুবাতে হবে। রস পিঠাগুলোতে ভালোভাবে ঢুকলে, উঠায় নিতে হবে।

গরম গরম নকশি পিঠা খেতে দারুণ লাগে। এটি বিশেষ দিন বা অতিথি আপ্যায়নের জন্য আদর্শ।

নকশি পিঠা – পুষ্টিগুণ

নকশি পিঠা শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি পুষ্টিকরও। মূলত চালের গুঁড়া, চিনি বা গুঁড় এবং এলাচ দিয়ে তৈরি এই পিঠা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি জোগায়।

নিচে নকশি পিঠার প্রধান পুষ্টিগুণ তুলে ধরা হলো:

শক্তির উৎস: চাল ও চিনি বা গুঁড় থেকে পাওয়া কার্বোহাইড্রেট দ্রুত শক্তি যোগায়।

খাদ্যআঁশ (Fiber): নারকেল ও চালের গুঁড়ায় থাকা ফাইবার হজমে সহায়ক, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: এলাচের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের ফ্রি র‍্যাডিক্যাল কমিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

প্রোটিনের উৎস: চালে থাকা পরিমাণ মতো প্রোটিন শরীরের কোষ ও পেশী গঠনে সাহায্য করে।

কম চর্বিযুক্ত: তেলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করলে এটি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবেও খাওয়া যায়।

স্বাস্থ্য উপকারিতা

১. দ্রুত শক্তি যোগায়
২. হজমে সহায়ক
৩. হৃদযন্ত্র ও হাড়-দাঁত মজবুত করে
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
৫. শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কের জন্য পুষ্টিকর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!