ঐতিহ্যবাহী মাছের ডিমের তরকারি | Traditional Fish Roe Curry
মাছের ডিমের তরকারী বাঙালি রান্নাঘরের এক চিরচেনা ও লোভনীয় পদ। বিশেষ করে বর্ষাকালে যখন নদী-নালায় ডিমওয়ালঅ মাছ পাওয়া যায়, তখন এ তরকারির কদর বেড়ে যায় অনেক গুণ। সাধারণত রুই, কাতলা বা ইলিশ মাছের ডিম দিয়েই এই তরকারি রান্না হয়।প্রথমে মাছের ডিম ভালোভাবে ধুয়ে হালকা লবণ ও হলুদ মাখিয়ে ভেজে নিতে হয়। এরপর পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ, হলুদ, ধনে ও জিরা গুঁড়া দিয়ে তৈরি হয় মসলা। তেলতেলে মসলা রান্না হলে ভাজা ডিম দিয়ে সামান্য পানি দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করা হয়। চাইলে আলু, বেগুন বা ঢেঁড়শও যোগ করা যায়। এতে তরকারির স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বাড়ে।
দেখে নেই তাহলে কি কি লাগছে, এই রান্না করতে।
উপকরণ
১. বড় মাছের ডিম- ১/২ কেজি২. তেল- পরিমাণ মত
৩. হলুদ গুড়া- পরিমাণ মত
৪. শুকনা মরিচ বাটা- পরিমাণ মত
৫. রসুন বাটা- সামান্য
৬. কাটা ও বাটা পেঁয়াজ- পরিমাণ মত
৭. কাগজী লেবুর রস- পরিমাণ মত
প্রস্তুত প্রণালী
প্রথমে ডিমে লবণ হলুদ মাখিয়ে গরম তেলে আধা ভাজা করে তুলে রাখুন। এবার খুব গরম তেলে কাট। পেঁয়াজ দিয়ে ও পরে বাট। পেঁয়াজ দিয়ে বেশ সোনালী করে ভাজুন। প্রয়োজন হলে পানি ব্যবহার করুন। এরপর হলুদ বাটা, মরিচ বাটা, যোগ করে যথা নিয়মে মশলা কমুন। রসুন বাটা কষানো মশলায় দিয়ে অতি সামান্য কষুন। আধা ভাজা মাছের ডিম ও আন্দাজ মত লবণ মশলায় ঢেলে দিন। তরকারি তেলতেলে হলে নামিয়ে ফেলুন। নামাবার খাণিকক্ষণ আগে লেবুর রস তরকারীতে চিপে দেবেন।মাছের ডিমে প্রচুর প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি ভাতের সঙ্গে খেতে দারুণ লাগে এবং রুচি বাড়ায়। স্বাদের পাশাপাশি এই তরকারির স্বাস্থ্যগুণও অসাধারণ।
বাঙালির পাতে মাছের ডিমের তরকারি যেন এক অনন্য রসনার আকর্ষণ, যা একবার খেলে মনে থেকে যায় বহুদিন।
মাছের ডিমের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
পুষ্টি উপাদান উপকারিতাপ্রোটিন শরীর গঠন ও কোষ মেরামত
ওমেগা-৩ মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো
ভিটামিন D হাড় মজবুত করে
ভিটামিন B12 স্নায়ুতন্ত্র ও রক্তকণিকার জন্য জরুরি
আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়ক
